fbpx

৬টি কারনে আপনার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ডিজিটাল মার্কেটিং খুবই জরুরী

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

জেনে নিন ডিজিটাল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে আপনার রেস্টুরেন্টের ব্যবসা কীভাবে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবেন।

একটা ব্যাবসা সামলানো সহজ কথা নয়। আর রেস্টুরেন্ট ব্যবসা হলে তো কথাই নেই। কারণ খাবারের ব্যবসায় প্রতিযোগিতাটা সবচেয়ে বেশি। এজন্যই আপনাকে সঠিক অর্জন করতে হবে সঠিক জ্ঞান আর সূক্ষ্ম উপায়- যার মাধ্যমে খুব সহজে হাজারও রেস্টুরেন্টের মাঝে আপনার রেস্টুরেন্টটিই হয়ে ওঠে নাম্বার ওয়ান।

এ যুগে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট ছাড়া মানুষ  খুঁজে পাওয়া ভার! আপনি জেনে অবাক হবেন, দেশের ৭৫  শতাংশ লোকই ইন্টারনেট থেকে রেস্টুরেন্টএর খোঁজ-খবর নিয়ে সেখানে খেতে যায়। তাই অনলাইন বা ইন্টারনেট দুনিয়ায় আপনার রেস্টুরেন্টের যদি ভাল প্রচারণা না থাকে, তাহলে কত বিশাল পরিমাণের কাস্টমার আপনি হারাচ্ছেন ভেবে দেখেছেন কী? এক্ষেত্রে আপনার রেস্টুরেন্টে মানুষের খেতে আসা নির্ভর করবে আপনার লোকেশন, খাবারের দাম আর ভাল ভাল রিভিউয়ের ওপর। তো কীভাবে শুরু করবেন সেই অনলাইন প্রচারনা? সেসবের উত্তর হবে আজকের ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ নিবন্ধে।

ডিজিটাল মার্কেটিংটা আবার কী ভাই?

হ্যাঁ, বলছি। ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে আপনার পণ্য বা সেবাকে কোন ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রোমোট বা প্রচার করা। আপনার ব্যবসার জন্য সফল ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলে থাকা চাই একটি ওয়েবসাইট,ইন্টারনেট মার্কেটিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর যেকোন রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো হলো ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম; কেননা এ মাধ্যমগুলোতেই আপনার পন্য অর্থাৎ খাবারের সব চমৎকার ও আকর্ষণীয় ছবি মানুষকে দেখাতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর অংশ হিসেবে আপনি গুগল বা ফেসবুকের পেইড বিজ্ঞাপন সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সুন্দর ইনফোগ্রাফিক্সটি দেখে আপনি এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

বুঝলাম, ডিজিটাল মার্কেটিং; আমার রেস্টুরেন্টের ব্যাবসা কীভাবে বাড়াবে?

১. নিজের পরিচয় তুলে ধরুন  

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে আপনি আপনার গল্পটা গ্রাহকদের সাথে অনলাইনে শেয়ার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুরুতেই আপনার ব্র্যান্ডটি অনলাইনে পরিচিত করে তুলতে হবে।

ব্র্যান্ড কথা বলে! কী কথা? ব্র্যান্ড আপনার রেস্টুরেন্ট-এর ইমেজকে তুলে ধরে। বাজারের অন্যান্য রেস্টুরেন্ট থেকে আপনারটি কেন আলাদা- তা ফুটিয়ে তোলে এবং আগাম জানিয়ে দেয় আপনার এখানে খাবার খেতে আসলে তাদের কী ধরণের অভিজ্ঞতা হতে পারে। যেমনঃ ‘আলিমের ভাতের হোটেল’ নামটি শুনলেই আমরা বুঝতে পারি সেখানে গিয়ে আমরা কী ধরণের খাবার পাব। আবার ‘পিজ্জা হাট’ শুনলেও বোঝা যায় সেখানকার বিষয়টা কি।

২. কাস্টমারদের আপন করে নিন

ডিজিটাল মাধ্যমগুলো (ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি) আপনাকে সুযোগ দেবে কাস্টমারের একেবারে কাছে পৌঁছে যাবার। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করে এই মাধ্যমগুলোই কাস্টমারের কাছে পৌঁছে যাবার সবচেয়ে সহজ ও ভালো উপায়।

সোশাল মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে আপনি খুব ভালোভাবে নিজের রেস্টুরেন্টের ভাবমূর্তি মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। আর এভাবেই আপনি অর্জন করতে পারবেন কাস্টমারের বিশ্বাস ও আস্থা। এক্ষেত্রে আপনাকে দ্রুত কাস্টমারদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, যাতে তারা বোঝে আপনি ক্রেতাদের কতটা উত্তম মূল্যায়ন করেন। আর একারণেই হয়তো ভবিষ্যতে তারা বারবার আপনার রেস্টুরেন্টে খেতে চলে আসবে।

৩. নতুন নতুন জিনিস শেয়ার করুন

মানুষ প্রথমে চোখ দিয়ে খায়। কথাটার সাথে কি আপনি একমত? হওয়া উচিৎ। যদি হয়ে থাকে তাহলে সেভাবেই অনলাইনে আপনার রেস্টুডেন্টের ভাবমূর্তি তুলে ধরুন। আপনি আপনার ফেসবুকে পেইজ, ইন্সটাগ্রাম আর ইউটিউবে সুস্বাদু সব খাবারের নতুন নতুন ছবি, ভিডিও শেয়ার দিতে থাকুন। শেয়ার করতে থাকুন মজাদার সব পোস্ট আর খাবারের রেসিপি। কাস্টমারকে দেখাতে পারেন যেখানে আপনার খাবারগুলো যেখানে রান্না হচ্ছে সেখানকার ছবি ও ভিডিও। শেয়ার করতে পারেন আপনার চটকদার অফারগুলো।

নতুন নতুন মজাদার সব পোস্ট দিয়ে আপনি কাস্টমারদের আপনার পেইজে নিয়ে আসতে পারেন; আর দেখবেন এতে সবাই বার বার আপনার রেস্টুরেন্টের পেইজেই ভিজিট করছে। সেখানে এমন কিছু রাখতে পারেন যার কারণে কাস্টমার নিজেই আপনার পেইজের বিজ্ঞাপন করে দেবে। যেমনঃ এই পোস্টে কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করলে দারুণ সব প্ল্যাটার উপহার।

৪. নিজের তথ্যগুলোকে নিয়মিত হালনাগাদ (আপডেট) করুন

অনলাইনে পুরানো তথ্যের ভিড়ে পড়ার মতো বিরক্তিকর আর কিছু নেই। ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে আপনি আপনার কাস্টমারকে দরকারি তথ্যটা দিতে পারেন কোনপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই; এক্ষেত্রে আপনি আপনার ওয়েবসাইট, ব্যবসার তালিকা বা বিজনেস লিস্টিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে জানাতে পারেন আপনার লোকেশন, ওপেনিং আওয়ার , খাবারের মেনু , যোগাযোগের ঠিকানাসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য।

আপনার ব্যবসায়ের জন্য আপনার ওয়েবসাইটটা খুব গুরুত্বপুর্ন কেননা এখনেই আপনার কাস্টমাররা এসে খুঁজে পাবে আপনাকে, জানতে পারবে আপনার গল্পগুলো। আপনার রেস্টুরেন্টের ডিজিটাল মার্কেটিঙের জন্য এটা হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে দামি হাতিয়ার, যেখানে আপনি নিয়মিত প্রচার করতে পারেন চমৎকার সব কন্টেন্ট; সেটা হতে পারে রেস্টুরেন্ট কিংবা খাবার নিয়ে আপনার নিজস্ব কোন  ব্লগ , অ্যালবাম কিংবা যে কোন কিছু।

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর অংশ হিসেবে ইয়েল্প, ট্রিপঅ্যাডভাইজার কিংবা গুগলের  বিজনেস লিস্টিং-এ আপনার নামটা থাকাও কিন্তু জরুরি। কেননা গুগল লিস্টিং দেখেই কিন্তু কাস্টমাররা আজকাল রেস্টুরেন্ট কিংবা খাবারের দোকান খুঁজছেন। সতরাং আপনার তথ্যগুলো হালনাগাদ করাটা জরুরি, এর সাথে আপনি যোগ করতে পারেন ছবি, খাবারের মেনুসহ আরও সব।

৫. অফারগুলোকে কাস্টমারের নাকের সামনে ঝুলিয়ে রাখুন

আপনার রেস্টুরেন্টের নিশ্চয়ই কিছু চমৎকার অফার রয়েছে? অথবা মেনুতে স্পেশাল কিছু ব্যাপার তো আছেই, নাকি? যদি থাকে তবে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে এই আকর্ষণীয় অফারগুলোকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন না! আর এজন্য ওয়েবসাইট আর ফেসবুক পেইজ তো আছেই! এতে যেমন নিয়মিত কাস্টমার তৈরি হবে, তেমনি একটা নিয়মিত ব্যবসাও গড়ে উঠবে (অর্থাৎ, একই কাস্টমার বারবার আসবে আপনার কাছে)। চিন্তা করে দেখুন তো, আপনার ওয়েবসাইট যারা ভিজিট করছে তাদেরকে একটা ডিস্কাউন্ট কোড দেবেন কিনা? অথবা যারা আপনার নির্দিষ্ট অফারগুলোতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করছে তাদেরকে ১০% ডিস্কাউন্ট দেয়া যায় কিনা!

৬. অনলাইনে আপনার কাস্টমারদের প্রতিক্রিয়াগুলো যত্নের সাথে দেখুন

অনলাইনে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত আপনার রেস্টুরেন্ট নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া জানায় সেটাই কিন্তু আপনার ব্যবসার ভবিষ্যত নির্ধারণের গোপন সূত্র। আপনি যদি এই ব্যবসায় পুরাতন হন, তাহলে তো এটা আর বলে বোঝানোর কিছু নেই। কেউ যদি আপনার রেস্টুরেণ্টে খেতে আসে তবে তাদের বেশির ভাগই আসবে অনলাইনের এই রিভিউগুলো দেখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের হিসেব অনুযায়ি ৯৭% কাস্টমারই খেতে যান অনলাইন রিভিউগুলো দেখে। গুগলে ৫ তারকা মার্কিং সম্পর্কে আপনার হয়ত আছেই। আপনার যদি এই ৫ এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ না থাকে, তবে কাস্টমার তো কখনই গাঁটের পয়সা খরচ করে আপনার এখানে খেতে আসবে না। ডিজিটাল ডিজিটাল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে এই জিনিসগুলো কিন্তু আপনি হাতে মুঠোয় নিয়ে আসতে পারছেন।

মোদ্দা কথাঃডিজিটাল মার্কেটিং আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়াবে

ডিজিটাল মার্কেটিঙ্গের মাধ্যমে আপনি তিনটি জিনিস দ্রুত হাতের মুঠোয় পাচ্ছেনঃ

১. খুব দ্রুত কাজ করতে পারবেন এবং ফলাফল (লোভনীয় অংকের মুনাফা) পাবেন প্রায় একই সাথে।

২. প্রচুর গ্রাহকদের সামনে প্রতিদিন আপনার গোটা রেস্টুরেন্টটা নিয়ে হাজির হতে পারবেন এবং বলতে পারবেনঃ কিনবেন না কেন? না কিনে কোথায় যাবেন?

৩. আপনার সার্ভিস, খাবার ও রেস্টুরেন্টের পরিবেশকে নিপুণভাবে দেখাতে পারবেন আপনার গ্রাহকদের।

চলুন তবে এখন থেকেই শুরু হোক নতুন যাত্রা! আমরা এর পুরো দায়িত্বটাই কিন্তু নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছি। আজকে আমাদের প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪ বছর। এত বছর ধরে আপনার মত অনেকেই কিন্তু আমাদের হাত ধরে হেঁটেছেন বা হাঁটছেন। তাদের কেউই কিন্তু নিরাশ হন নি। বরং অনেকের সাথেই আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আসুন তবে! আপনাকেও আমন্ত্রণ।

 

Spread the word


Facebook


Twitter


Google-plus


Linkedin


Snapchat

ফ্রি ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজীবুক

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসাকে আরো স্মার্ট আর দ্রুতগতিতে বাড়াতে চাইলে আপনার প্রয়োজন একটি ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজী।

আমাদের এই বইটি থেকে আপনি জেনে নিতে পারেন কিভাবে আপনার ব্যবসার জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজী দাড়া করাবেন।

আরো পড়ুন

blogs

ফেসবুক বিজ্ঞাপনে সফলতা অর্জনের দ্রুত ও কার্যকর পদ্ধতি

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ জানিয়েছেন যে প্রায় ২.২ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রতি মাসে ফেসবুক ব্যবহার করে। প্রতিদিন এটি ব্যবহার করে প্রায় 1.5 বিলিয়ন মানুষ। কাজেই যেসব

blogs

ব্যাবসায়িক ওয়েবসাইটের উন্নয়নের জন্য সঠিক টুলস নির্বাচন

ব্যবসার জন্য একটি ওয়েবসাইটের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা সকলেই জানে। তাই ব্যবসার শুরু থেকেই প্রায় সকলের এ বিষয়ে একটি প্ল্যান থাকে এবং ওয়েবসাইট প্রস্তুত

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে স্মার্টলি ব্যবসা বাড়াতে চান?

ফ্রি কন্সাল্টেশন সেশনের জন্যে যোগাযোগ করুন আজই

Close Menu

ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজীবুক

এই বইটি আপনাকে সাহায্য করবে আপনার ব্যবসার জন্যে একটি কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজী তৈরী করতে।
ফ্রি ডাউনলোড করতে আপনার নাম, ফোন নাম্বার এবং ইমেইল দিন।